অনুভূতির_কেন্দ্রবিন্দু_তুমি #পর্বঃ২১ #সুমাইয়া_সানজুম_ঐশী

#অনুভূতির_কেন্দ্রবিন্দু_তুমি
#পর্বঃ২১
#সুমাইয়া_সানজুম_ঐশী

_ও আমায় ঠ*কিয়েছে, প্র*তারণা করেছে ভাইয়া।ও এই মেয়েটার সাথে এতোদিন রিলেশনশীপ এ ছিলো আমার অজান্তে। ও একটা বিশ্বাসঘাতক,ভাইয়া। ওকে আমি খু*ন করে ফেলবো। একথা বলেই আপু রবিন এর দিকে তেড়ে যেতেই আঁধার ধরে ফেললেন

_তোর কোথাও ভুল হচ্ছে নাতো,দাড়া। আচ্ছা তোকে কেউ ভুল ইনফরমেশন দেই নি তো!

আঁধারের কথা শুনে আলো আপু নিজের ব্যাগ খুজতে লাগলো। আমি এগিয়ে দিতেই আপু ব্যাগ থেকে ফোন বের করে আঁধারের হাতে দিয়ে বললেন,

_দেখো, এখানে অনেক গুলো ভিডিও ফুটেজ আছে।সব এই অফিসেরই। কোনটা কবেকার তার তারিখ ও রয়েছে। আমি আজ সকালেই পেয়েছি। আমিও ভেবেছি হয়তো ভুল। কেউ ইচ্ছে করে বিয়ে ভাং*তে আমাকে এডিট ভিডিও পাঠিয়েছে। তাই রবিনকে জিজ্ঞেস করতে এসেছিলাম কিন্তু তার কেবিনে ঢুকে আমি অবাকের চূড়ান্ত পযার্য়ের ছিলাম। সে ওই মেয়েটার সাথে,,, ছি,,,আমার ভাবতেই ঘে*ন্না হচ্ছে এতো দিন আমি এই চরিত্রহী*ন পুরুষকে অ*ন্ধের মতো বিশ্বাস করছি।আমার সব শেষ হয়ে গেছে ভাইয়া।আপু আবার কান্না করতে লাগলো।

আঁধারকে দেখে বুঝা যাচ্ছে তিনি প্রচুর ক্ষে*পে আছেন। আপুর হাতে ফোন দিয়ে দ্রুত রবিনের নাক বরাবর দিলেন একটা।আরও দিতে যাবে তার আগেই ভোর নামক লোকটা তাকে ধরলো,

__আরে আঁধার করছিস কি!ম*রে যাবে। এমনিতেই মাথায় আঘা*ত পেয়েছে। রা*গ কন্ট্রোল কর।

_বেইমানের বাচ্চা বে*ইমান,শা*লা ক্যারে*ক্টারলেস।রা*স্কেল এইটারে আজকে মেরেই ফেলবো, তুই ছাড় আমাকে। আমার বোনের জীবন নিয়ে মজা করা। ওকে পু*তে ফেলবো আমি ছাড় তুই।চিতকার করে বললেন আঁধার

_তুই পুলিশ কেইস কর।শুধু শুধু এরে মে*রে হাত ময়লা করছিস কেনো!তুইও যদি আলোর মতো আচরণ করিস তাহলে কিভাবে হবে বল!শান্ত হ,,আলোকে সামলা।মেয়েটা সেই তখন থেকে কাদতে কাদতে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
আর হ্যাঁ, মি.রবিন এন্ড মিস মোনালিসা আপনারা দুজনই কালকে রিজাইন লেটার জমা দিবেন। আপনাদের কারণে আমার কোম্পানির বদনাম হোক, আমি চাইনা। আপনারা আসতে পারেন।

এরপর তারা চলে যাওয়ার পর লোকটা বাকি স্টাফদেরও নিজ নিজ কাজে যেতে বললেন।

_আলো একটু দেখে রাখো। আমি ড্রাইভার ড্রাইভার পাঠিয়ে দিচ্ছি। এলে বাসায় চলে যাবে।

একথা বলে আঁধার নিচে নেমে গাড়ি নিয়ে মূহুর্তের মধ্যে উধাও হয়ে গেছেন। কিছু জিজ্ঞেস করবো তার সুযোগ ও পেলাম না। আমরা এখনো সেই লোকটার কেবিনেই আছি। আলো আপু এখনো বসে বসে কাদছে।আসলে,

“বর্তমানে মানুষকে বিশ্বাস করার কাজটা ভীষণ ঝুঁ*কিপূর্ণ!”

কিছু কিছু মানুষের হৃদয়ে— হৃদয় থাকে না,মানুষ ঠকানোর নিখুঁ*ত ফাঁদ থাকে।আমরা অবুঝের মতো তাদের বিশ্বাস করি।বর্তমানের ভালোবাসায় ধো*কা বেশি।আজকাল মানুষ যাকে নিজের থেকেও বেশি!
বলতে গেলে যাকে বলে ‘অন্ধ*বিশ্বাস’,,সুযোগ পেয়ে সেই ব্যক্তিই অবশিষ্ট রেখে যায় একগুচ্ছ , ‘দীর্ঘশ্বাস’….

আপুকে সান্ত্বনা দিয়েও লাভ হচ্ছে না সে কেদেই চলেছে। আপু অনেক বেশি ভালোবাসতো ওই রবিন কে।প্রায় অনেক দিনের রিলেশন এর পর যদি কেউ জানতে পারে তার উডবি লুই*চ্চা,বেয়া*দ্দপ, চরিত্রহী*না পুরুষ তাহলে তার কান্না পাবেই। খারা*প লাগতেছে আপুর জন্য। এলো বলার পরোও কান্না থামায়নি। হিচকি তুলে কান্না করছে।

_কার জন্য কাঁদছেন!
যে বিশ্বাস ভা*ঙে? যে শুধু অভিনয়,প্রতা*রণা করতে জানে? যে অনুভূতি নিয়ে মজা করে ? যে ভালোবাসার নামে মি*থ্যে অভিনয় করে??তার জন্য!

“এদের জন্য কাঁদলে আপনি শুধু মাত্র হাসির পাত্র হবেন, নিজের কাছে ছোট হবেন। আপনার ইগোর কাছে ছোট হবেন, তখন আপনার মাঝের এটিটিউড হারাবেন,, তার চেয়ে বরং নিজের অনুভূতি গুলো নিজের কাছে যত্ন করে গুছিয়ে রাখতে শিখুন। আর কিছু না পান, অন্তত কারো কাছে হাসির পাত্র আপনাকে হতে হবে না”।।এবার কান্না অফ করুন মিস আলো

লোকটার কথায় আপুর কান্না থেকে গেছে। লোকটা পুনরায় চেহারায় গম্ভীর ভাব নিয়ে বললেন,

_বিশ্বাস করা শ্রে*ষ্ঠতর কাজ,তবে অ’ন্ধ’বিশ্বাস ভ’য়ং’ক’র রকম ভুল কাজ।মাঝেমাঝে আমরা সেই,ভ’য়ং’ক’র ভু’লটাই করে ফেলি।তাই সবাইকে ‘বিশ্বাস’ করা ঠিক নয়! কারণ ‘লবণ আর চিনির’ রং কিন্তু একই। একজনকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা বোকা*মি। প্রতারক দের শুধু ঘৃণাই করা যায়, তাদের জন্য মূল্যবান অশ্রুকণা ঝরাবেন না।দেখতে ম*ন্দ লাগে।

আসলেই তার কথায় সত্যিই যুক্তি আছে। কি সুন্দর গুছিয়ে কথা গুলো বললেন তিনি। আপুর কান্না একেবারেই থেমে গেছে, আর আমি এতো কষ্ট করে চেষ্টা করেও পারিনি।

⭐⭐⭐

সেদিনের পর দু সপ্তাহ কেটে গেছে। আপু এখন আগের থেকে স্বাভাবিক আছে।ভাসিটি রেগুলার আমার সাথে যাওয়া আসা করে।রোজা আপুরাও যায় নি। আলো আপুর জন্য তাদেরও এখানে রেখে দিয়েছে আঁধার। তারা এখান থেকেই পড়ছে। সবমিলিয়ে সবারই ব্যস্ততার দিন কাটছে।আমি তো শুক্রবার ছাড়া সময় ই পাই না রান্না ঘরে যাওয়ার। অফিসের কাজ,পড়াশোনা, কোচিং এগুলোতেই সময় ঘোড়ার মতো দৌড়াচ্ছে।আজ শুক্রবার, আঁধার ও বাসায় আছে।আমি বারান্দার গাছ গুলোর পাতা কেটে আগাছা পরিষ্কার করছিলাম। হঠাৎই আঁধারের গলার স্বর শুনলাম,

_আমায় এক মগ ব্লাক কফি এনে দাও।মাথা ধরেছে।

আমি বারান্দা থেকেই বললাম,

_আমায় বলছেন??

_নাহ,আমার বারান্দায় বসে থাকা পে*ত্নীকে বলছি।ষ্টু*পিড,, বারান্দায় তুমি ছাড়া কি আমার আরেকটা বউ আছে!

_যতসব আজাইরা ঢং।একবার বলে বউ মানে না।আবার বউ বউ,, কইরে পারসোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট এর কাজ করায়।ছ’মাস যাক তারপর দেখবো বুয়াগিরি কারে দিয়ে করায়।

_বারান্দায় কাচি হাতে বিড়বিড় না করে তাড়াতাড়ি যাও।আর হ্যাঁ আন্টিকে বলো চিনি ছাড়া কফি বানাতে।

আমি কিছু না বলেই পা বাড়ালাম রান্নাঘরের দিকে।গিয়ে দেখি আন্টি বিকেলের জন্য সেমাই আর ডিম পরোটা বানাচ্ছেন। মা এখন রান্না ঘরে তেমন আসেন না,গরম তিনি সহ্যই করতে পারেন না তাই।আমাকে দেখে আন্টি বললেন,

_কিছু লাগবে?নূতন বউ

_তুমি নাস্তা বানাও আন্টি।কফিই তো আমি বানিয়ে নিবো। তোমার পরোটা সব তো হয়ে গেছে। কড়াই টা নামিয়ে চুলা খালি করে দাও।আমি পানি বসাচ্ছি।কফি মগে ঢালতেই আন্টি বললেন,

_নূতন বউ, তোমার বিয়ে কত দিন হইসে?

_প্রায় আড়াই মাস, আন্টি।কেন?

_এতদিনে তো আমরা সুখবর পাওনের কথা। তো কোনো সুখবর আছে নি?

তার প্রশ্নে আমি হতবিহ্বল। অস্বস্তি লাগছে প্রচুর,, পৃথিবীতে কি প্রশ্নের অভাব পড়ছে যে উনার এই প্রশ্ন টাই করতে হবে!

__কোনো খবর টবর নেই, আন্টি।

আমতা আমতা করে বলে আমি মগটা নিয়ে কোনো রকম পালিয়ে এলাম রান্না ঘর থেকে। বাব্বা অতিরিক্ত কৌতূহল তার।আর এইসব ব্যাপার এ একটু বেশি ইদানিং কৌতূহল করছেন আন্টি।আমি মগটা এনে টেবিলে রেখে বললাম,

_নিন।

একথা বলে বারান্দায় যাচ্ছিলাম তখনই তার আবার ডাক পড়লো।

_মহারানী, দয়া করে লাইব্রেরি থেকে আমার গ্রীন কালার এর ফাইলটা একটু এনে দিন,আমি ল্যাপটপ এ মিটিং এ মাত্র জয়েন দিয়েছি ।তাই আপনাকে ক*ষ্ট দিচ্ছি,, নয়তো নিজেই নিয়ে আসতাম। আর হ্যাঁ , আপনাকে বুয়াগিরি করাচ্ছি এটা কিন্তু মোটেও মনে করবেন না। একজন স্ত্রী হিসেবে আপনার যা দায়িত্ব তাই পালন করাচ্ছ,ছি,,,

তাকে আর কিছু বলতে না দিয়ে,

_আমায় নিজের স্ত্রী কবে থেকে মানা শুরু করলেন!!ডাক্তারসাহেব!

তার দিকে একটা তা*চ্ছিল্য হাসি দিয়ে উত্তরের অপেক্ষা না করেই রুম ত্যাগ করলাম। হয়তো তিনি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন আমার দিকে। থাক তাকিয়ে।

লাইব্রেরীতে এই ২য় বার আমার আসা।সত্যিই একজন রুচিশীল মানুষের পরিচয় বহন করে এখানের পরিবেশ। লাইব্রেরীর সাজানোর মালিক হিসেবে তাকে ডাক্তার বলে মনে হবে না। মনে হবে একজন সাহিত্যিক। তাইতো এখানে শ’খানেক উপন্যাসের বই রয়েছে। যদিও একপাশে হাড্ডিমন্ত্রী কংকাল সাহেব ও চোখ ছাড়া তাকিয়ে রয়েছে। এসব ভাবনার মাঝেই আমার চোখ গেল বুকশেলফের নিচে।আমি ঝুকে তা হাতে নিয়ে দেখলাম একটা হাতে আকা ছবি ফ্রেম বাঁধানো।একটা মেয়ের ছবি এক্রিলিক রঙ দিয়ে আকা।এটার স্কেচ করলে অনেক সুন্দর হবে তাই নিজের সাথে নিয়ে নিলাম

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here