Monday, April 13, 2026
Home "ধারাবাহিক গল্প প্রতিশোধ_2 প্রতিশোধ__2 পার্ট__2

প্রতিশোধ__2 পার্ট__2

প্রতিশোধ__2
পার্ট__2
জামিয়া_পারভীন

______ সকালে নুহাশের আগে ঘুম ভাঙ্গে, জেগেই দেখে একটা মেয়েকে কোলবালিশের মতো জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে।

__ আ আ আ আ আ আ ( নুহাশ)

__ তিথির ঘুম ভেঙ্গে তিথিও নুহাশ কে পাশে দেখে চিৎকার দেয়।

__ আরে থামুন, আপনি আমার কামড়ায় আসলেন কিভাবে। ( নুহাশ)

__ আপনার রুম কেনো হতে যাবে এটা আমার রুম। ( তিথি)

__ আরে এটা আমার রুম, আপনি আসলেন কিভাবে? ( নুহাশ)

__ আপনি ভালো করে দেখে আসুন এটা আমার রুম, রুম নাম্বার ৭৫৬, নইলে আমি এখানে আসলাম কিভাবে? ( তিথি)

__ আরে এটা ৭৫৯ নং রুম আপনার ভুল হচ্ছে।

__ আপনি গিয়ে চেক করে আসুন..

নুহাশ তাড়াতাড়ি করে বিছানা থেকে উঠে তিথির হাত ধরে দরজা দেখাতে গেলো। দরজায় রুম নং ৭৫৬ দেখে নুহাশের মাথা গরম হয়ে গেলো। আরোও মেজাজ খারাপ হলো সামনের রুম নাম্বার ও ৭৫৬ দেখে।

__ তিথি ও দুইটা রুমের একই নাম্বার দেখে রেগে যায়। দুইজন ই হোটেল বয় কে চিল্লিয়ে ডাকতে থাকে। হোটেল বয় বলে নাম্বার প্লেট এর স্ক্রু ঢিলা ছিলো তাই ৯ টা ৬ হয়ে গেছে। দুইজনেই চোখ কটমট করে একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে। রাত্রে কিভাবে একই রুমে এসেছে কারোর ই মনে নাই।

__ আসলে সরি, ( তিথি)

__ হুম সরি, আসলে কিভাবে যে কি হয়েছে কিছু মনে নাই। আ আ আ আপনি বাঙ্গালী নাকি? ( নুহাশ)

__ ও হ্যাঁ তাইতো , বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে দেশের মানুষ। বেশ ইন্টারেস্টিং তো। ( তিথি)

__ আমরা তো ভিতরে গিয়ে কথা বলতে পারি। ( নুহাশ)

__ আমাদের আগে উচিৎ ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট আগে করা। ( তিথি)

__ দাঁড়ান দাঁড়ান, আপনাকে যেন চিনা চিনা লাগছে, কোথায় যেন দেখেছি? ( নুহাশ)

__ মজা করছেন? আপনাকে তো ফার্স্ট টাইম দেখলাম। ( তিথি)

__ মজা করছি না, হুম দেখেছি না, মানে আপনার চোখ, মুখের আকৃতি সেম আমার আম্মুর মতো শুধু চুলগুলো আপনার কোকড়ানো, এই জন্য চিনা যাচ্ছেনা । কিভাবে সম্ভব এটা বলেন তো?

__ এটা তো সম্ভব ই না ( তিথি)

নুহাশ ফোন থেকে মায়ের ছবি দেখায় আগে।

__ এই যে দেখুন আমার আম্মু ( নুহাশ)

__ আশাকরি আপনি মজা করছেন? এটা আপনার আম্মু হতেই পারেনা। ( তিথি)

__ আমার আম্মু কে কি আপনি চিনেন নাকি যে বলছেন এটা আমার আম্মু না। ( নুহাশ)

__ আরে এটা তো

( তিথি ফোন থেকে একটা ছবি বের করে নুহাশ কে দেখাতে যাবে তখনি মনিকা চলে আসে)

__ হাই তিথি,

( নুহাশের দিকে তাকিয়ে) আরে স্যার আপনি এখানে কিভাবে?

__ তুই উনাকে চিনিস নাকি? ( তিথি মনিকা কে বলে)

__ হ্যাঁ উনি তো আমাদের অফিসের বস, যেখানে তোর কাল জয়েন করার কথা। ( মনিকা)

__ তিথি মুখ হা করে নুহাশের দিকে তাকিয়ে আছে।

__ এই আপনার মুখ বন্ধ করুন, মাছি ঢুকবে হা হা হা ( নুহাশ)
ওকে গাইস আগে ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করতে করতে কথা বলি।

__ হুহহহহহ! ( তিথি নুহাশের দিকে তাকিয়ে মুখে ভেংচি কাটে) এরপর চলে আসে নিজের রুমে মনিকার সাথে।

__ নুহাশ ও মনে মনে হেসে নিজের রুমে চলে আসে। ফ্রেশ হতে গিয়ে শুধু মেয়েটার কথাই ভাবছে, ইসসস এতো কথা বললাম মেয়েটার নাম ই তো জানা হলোনা। হুম মনে পড়েছে কাল যে মেয়ে জয়েন করবে সে তিথি তার মানে এটাই তিথি। এলেমেলো চিন্তা তিথি কে ঘিরে আসতে থাকে নুহাশের মাথায়।

_____ তিথি ও নুহাশের কথা চিন্তা করছে, কে সে, একদিনের পরিচয় এ এতো আপন মনে হয় কিভাবে?
,
,
,
____ সকালে নেহা ওর মায়ের কোলে শুয়ে শুয়ে কান্না করছে। কিন্তু কোনই কারণ বলছে না কেনো কাঁদছে।

__ আরে কি হয়েছে বলবি তো , না বললে বুঝবো কেমন করে ( নিরা)

__ কা আ আ ল বিয়ের অনুষ্ঠান এ এ এ ( কান্না করছে নেহা)

__ আরে কি হয়েছে লক্ষ্মী মেয়ে আমার বল তো ? ( নিরা)

__ কাল বরযাত্রী তে আসা একজন আমাকে নিয়ে জোর করে ডান্স করেছে। ( ভ্যা করে কান্না শুরু করে দেয়)

__ আরে বাবু এই জন্যে এতো কান্না করতে হবে না। মোনালিসার বাড়ি আর যেতে হবেনা কেমন সোনা টা। ( নিরা)

__ না আম্মু, মোনালিসা ওর বৌভাতে আমি না গেলে খুব রাগ করবে। ( নেহা)

__ তাহলে যাবি, ওকে আমার সাথে যাস , আর কান্না করে না লক্ষ্মিটি। ( নিরা)

__ নেহা বেশিক্ষণ রাগ করে থাকতে পারেনা তাই মা কে কিছুক্ষণ জড়িয়ে ধরে থাকে।
,
,
নিরা এখন দিল্লীর একটা হসপিটালে আছে। সেখানে নিরা গরীবদের ফ্রি চিকিৎসা দিয়ে থাকে। আবির ও নিরাকে সব সময় হেল্প করে ফ্রি চিকিৎসা দিতে। আবির মেডিকেল কলেজের প্রফেসর হয়েছে এখানে কিন্তু কখনো এক্সট্রা আয় করতে চায় না। খুব সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে গেছে আবির আর নিরা। একমাত্র মেয়ে নেহা কেই নিজের মনের মতো করে গড়ে তুলতে পেরেছে। কিন্তু নুহাশ এর উচ্চাকাঙ্খার জন্য নুহাশ ৮ বছর আগে স্কলারশিপ পেয়ে লন্ডনে যায়। সেখানেই সেটেল হয়ে গেছে। বিয়ে এখনো করেনি, তাই হয়তো রোজ মা বাবা আর বোনের সাথে রাত্রে বেলা একবার হলেও ভিডিওকলে কথা হয় নুহাশের।

কিন্তু গতরাত থেকে নুহাশের খোঁজ পায়নি আবির বা নিরা কেউ ই। অনেক বার ফোন করেছে কিন্তু বারংবার সুইচড অফ বলছে।
,
,
,
_______ দুই দিন থেকে একমাত্র মেয়ে তিথি নিখোঁজ এটা এখনও মেনে নিতে পারছেনা সাইফ। চিল্লিয়ে বাড়ি মাতিয়ে রেখেছে।

__ আচ্ছা একটা মেয়ে তো হঠাৎ করেই হাওয়া হয়ে যাবেনা তাইনা। তাহলে গেলো টা কোথায়? ( সাইফ)

__ টেনশনে আমার মাথাটা ধরে আসছে, কোথায় যে গেলো মেয়েটা। ( তৃণা)

__ আর তোমার মাথা ধরে কাজ নেই। একটা মেয়ে জন্ম দিয়েই তো আর মা হবার সুখ পাওনি। ওই একটা মেয়েকেই তো লাই দিয়ে মাথাই তুলেছো? এখন বোঝ কি করেছো? ( অনন্যা)

__ আহহহ! অনন্যা তুই তৃণাকে খবরদার বকাবকি করবি না। আমি খুঁজে দেখছি কোথায় গেলো মেয়েটা । ( সাইফ)

__ কোথায় আর যাবে তোমার মেয়ে মামু, সেতো পালিয়েছে। বিয়েটা করবেনা তাইইইইই, এখন যদি না পাই তিথি কে তাহলে গোটা বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দিবো বলে দিলাম ( অভি, অনন্যার ছেলে)

_____ [ একটা সাইকো অভি , যখন যা চায় সব আদায় করে নেয়, সাইফের অমতে তিথি কে বিয়ে করতে চেয়েছিলো কিন্তু তৃণা সুযোগ বুঝে মেয়েকে সরিয়ে দিয়েছে। কারণ তৃণা জানে এই বাজে ছেলেটার ঘরে তিথি কখনো সুখে থাকবে না ]

________ তৃণা সাইফ কে এই কথাটা বলতে ভয় পাচ্ছে কারণ অনন্যা কোন ভাবে যদি জানে তিথি লন্ডন গেছে তাহলে তিথিকে তুলে আনিয়ে অভির সাথে বিয়ে দিবে অনন্যা।

_______ নুহাশ ব্রেকফাস্ট করতে এসে তিথি আর মনিকা কে একসাথে পেয়ে তাদের সাথেই বসে পড়ে একদম তিথির কাছ ঘিষে ।

__ হাইইইই, চলে আসলাম, ডোন্ট মাইন্ড। ( নুহাশ)

__ কি যে বলেন স্যার, আপনি আমাদের বস। ( মনিকার মুখের কথা কেড়ে নেয়ে নুহাশ বলে)

__ তুমি খুশি হলেও আরেকজন তো মোটেও খুশি হয়নি। ( নুহাশ)

__ আরে আমি কখন বললাম যে আমি খুশি হইনি??? ( মন চাচ্ছে একটা ঘুষি দিয়ে নাকটা ফাটিয়ে দিতে।) ( তিথি)

__ এইতো মনে মনে বলছো, এই আপদ টা কোথা থেকে আসলো? ( নুহাশ)

__ মোটেও না, মনে মনে আপনার নাকে ঘুষি দিতে ইচ্ছে করছে, দিবো কি? ( তিথি)

__ এইইই নানা, নিজের নাক এক হাত দিয়ে প্রটেক্ট করে। বিশ্বাস নেই তোমার, দিয়েও দিতে পারোওওওও। ( নুহাশ)

একসাথে সবাই হেসে উঠলো ।

___ বাই দ্যা ওয়ে আপনার নাম টা যেনো কি? ( তিথি)

___ সর্বনাশ, আপনি আমার নাম জানেন না?
( হাই, আই অ্যাম নুহাশ এন্ড ইউ? হ্যান্ডসেক করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়ে)

__ আই অ্যাম তিথি, ফ্রম অস্ট্রেলিয়া, নাও ইন লন্ডন, নাইস টু মিট ইউ, থ্যাংক ইউ। ( হ্যান্ডসেক করে নুহাশের সাথে)

নুহাশের মনে দুষ্টু বুদ্ধি আসে

__ জানো মনিকা আজ আমি আর তিথি একসাথে রাত্রি যাপন করেছি। ( নুহাশ)

__ এইই একদম মিথ্যে বলবেন না। রা রা রাত্রি যাপন করেছি মানে টা কি? ( তিথি)

__ এই যে! আমি কি মিথ্যে বলছি নাকি? সকালে আমায় জড়িয়ে ঘুমিয়ে ছিলে আর মাত্র এক ঘন্টা তে ভুলে গেলে? ( দুষ্টু হাসি হেসে)

[ এদিকে মনিকা জ্বলে যাচ্ছে, কিন্তু কিছু বলতে পারছে না। মনে মনে নুহাশ কে পছন্দ করে কিন্তু বস বলে কখনো সেইরকম কিছুই বলেনি। ]

__ মোটেও নয়, এমন কিছুই হয়নি আমাদের মাঝে। ( তিথি)

__ রাত্রে কি হয়েছে দু’জনের ই মনে নাই, হলে হতেও পারে। ( নুহাশ) ( বলেই বাম হাত দিয়ে তিথির হাতে চিমটি কাটে। )

__ উঁউউউউউ, কখনো এমন হয়নি। ( মনে মনে খুব রাগ উঠে)

__ আরেএ হয়েছে তো ( নুহাশ)
( এবার তিথির রাগ উঠে নুহাশে দুই কান মলে দেয়। )

__ এইটা হইছে। ( হিহিহি, বেশ হইছে)

__ নুহাশ সবার সামনে বেশ লজ্জায় পড়ে যায়। এই সিচুয়েশান কাটানোর জন্য তিথির চুল ধরে টান দেয়।
বেশ হইছে এবার ( নুহাশ)

__ মনিকা চল তো এখানে আর ভালো লাগছে না ( তিথি)

__ তুই বাইরে যা আমি আসছি। ( মনেমনে খুব রাগান্বিত হয়ে আছে? )

________ তিথি মনে মনে নুহাশের সাথে একা কিভাবে কথা বলবে সেটা ভাবছে কিন্তু মনিকার জন্য কিছুই পারছে না। নিজের মায়ের ছবি নুহাশের কাছে কিভাবে গেলো? থাক পরে একসময় বলবো ভেবে নুহাশের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসে।

চলবে………

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here